রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ ইং         ০২:৪৮ অপরাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    ঘটনা নিয়ে ধ্রুমজাল ; কুলিয়ারচরে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারে প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


    প্রকাশিতঃ 25 Jan 2023 ইং
    ভিউ- 0
    শেয়ার করুনঃ


    মৌসুমী আক্তার, কুলিয়ারচর প্রতিনিধিঃ


    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সাদিয়া আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবী করে ওই মামলায় নূরুল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে অভিযুক্তদ্বয়ের পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ এলাকাবাসী।


    মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা কুঁড়েরপাড় গ্রামে অভিযুক্ত নূরুল ইসলামের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


    সংবাদ সম্মেলনে মামলায় অভিযুক্ত বড়চারা কুড়েঁরপাড় গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী ও অভিযুক্ত পাদুকা শ্রমিক বায়েজিদ মিয়ার মা মঞ্জুরা বেগম (৩৫) ও তার জা রোকসানা (৩০), স্থানীয় গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রমিজ উদ্দিন ও বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মো. হাবিবুর রহমান শিশুসহ এলাকার দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তারা বলেন, একজন নারীর শরীরে আগুন দেওয়ার মত ঘৃণিত ঘটনার বিচার আমরাও চাই। কিন্তু এ ঘটনায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা কেউ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না। ঘটনার দিন ও সময়ে বায়েজিদ এলাকাতেই ছিলো না। সে ঢাকা একটি পাদুকা নির্মাণ কারখানায় কর্মরত ছিলো। বায়েজিদের পিতা স্থানীয় রোমান মিয়া নামে এক পাদুকা শ্রমিকের মৃত দেহ দাফনের জন্য একটি কবর খুঁড়ার কাজে অংশগ্রহন করেন। ওই দিন ও সময় কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তা জানি না। তবে এ ঘটনার সাথে কোনো ভাবেই বায়েজিদ ও তার পিতা নুরুল ইসলাম সম্পৃক্ত না। তারপরও ওই ঘটনায় বায়েজিদ ও তার পিতা নুরুল ইসলামকে দায়ি করে মিথ্যা অভিযোগে গৃহবধূ সাদিয়ার পিতা উপজেলার তাতাঁরকান্দি নোয়াহাটি গ্রামের মো. খোকা মিয়া ওরুফে খোকন বাদী হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং- ১৪। থানা পুলিশ ঘটনার দিন ২২জানুয়ারি রোববার রাত ১১টার দিকে নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফোনে থানায় ডেকে নিয়ে পরদিন ২৩ জানুয়ারি সোমবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের সময় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এর পরদিন ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট, হয়রানি ও ষড়যন্ত্র মূলক। তারা এ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বায়েজিদ ঢাকা থেকে কীভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে এমন প্রশ্ন রেখে তারা আরও বলেন, উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দূষীদের যেনো খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হয় এবং নির্দোষ নুরুল ইসলামের মুক্তি ও বায়েজিদসহ তাদের এ মিথ্যা মামলা থেকে যেন অব্যবহিত দেওয়া হয় এমন দাবী জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।


    সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন ওই গৃহবধূর শ্বাশুরী গোলাপ বানু অনেকের উপস্থিতিতে তার সাথে বলেছেন, অভিযুক্ত বায়েজিদ ঘটনার সময় ঢাকা ছিলো। তারপরও এ ঘটনায় বায়েজিদ ও তার পিতাকে কি ভাবে আসামি করা হলো জানিনা।


    কেননা, পুলিশি হেফাজতে নূরুল ইসলাম বলেন, প্রথমত ঘটনার দিন আমার ছেলে বাড়ি ছিল না। ঢাকা একটি জুতার কারখানায় কর্মস্থলে ছিল। নিজে আসামি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় ছেলের কতটা দোষ জানি না, তবে এটা জানি, আমার কোনো দোষ নেই।


    নূরুল ইসলামকে মামলার আসামি করার কারণ জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের বিষয়টি নূরুল ইসলাম জানতেন। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে নূরুল ইসলামকে এ বিষয়ে অভিযোগ করে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এতে স্পষ্ট নয় যে, নূরুল ইসলাম ঘটনার সময় বায়েজিদের সাথে ছিলেন।


    এছাড়া মামলার কোথাও উল্লেখ নেই যে, গৃহবধূ সাদিয়া আক্তারের শরীরে দহনকারী পদার্থ ছিটাইয়া দিয়াশলাই দিয়া আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সময় সাদিয়া আক্তার কিংবা কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম ও বায়েজিদকে ঘটনাস্থলে দেখেছে। তবে মামলায় উল্লেখ আছে যে, ওই গৃহবধূ টয়লেটে যাওয়ার সময় বায়েজিদ ও তার পিতা নূরুল ইসলাম সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন মিলে তার মুখে চাপ দিয়ে ধরে  সাদিয়ার শরীরে দহনকারী পদার্থ ছিটাইয়া দিয়াশলাই দিয়া আগুন ধরিয়ে দেয়।


    অপর দিকে আহত সাদিয়া আক্তার বলছে অন্য কথা। সে জানিয়েছে টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় দুইজন ব্যক্তির মধ্যে একজনে তার মুখে চাপ দিয়ে ধরে অপর একজন তার শরীরে এসিড ডেলে দেয়। তবে অন্ধকারের জন্য তাদের একজনকে চিনেননি। অপর একজন বায়েজিদের মতোই দেখতে বাডি বুডি বলে জানান। কিন্তু সঠিক ভাবে তাকে চিনতে পারেনি এমনই বুঝিয়েছে সে। তবে বায়েজিদের পিতা ঘটনার সময় ওখানে ছিলো এমন কোন কথা জানায়নি।


    মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার বিবরণের সাথে ভিকটিমের বক্তব্যের মিল নেই এবং ভিকটিম নিজে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও সে নিজে কিংবা তার স্বামী, শ্বশুর- শ্বাশুরী বাদী না হয়ে অন্য এলাকা থেকে ভিকটিমের পিতা বাদী হওয়ায় এ ঘটনা নিয়ে ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়েছে।


    তবে জানা যায়, ভিকটিমের স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ মনমালিন্য হয়ে আসছে। একবার ভিকটিম বাদী হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা এনজিও সংস্থা ব্র্যাকে একটি অভিযোগ করার পর তার স্বামীর সাথে মিলিয়ে দেয় এলাকাবাসী। কিছু দিন পর পরই তাদের মধ্যে মনমালিন্য হয়।


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2023 muktir71news.com All Right Reserved.