রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ ইং         ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    রায়পুরায় শেরপুরে কলাবাগান থেকে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গিয়াছে


    প্রকাশিতঃ 06 Dec 2022 ইং
    ভিউ- 56
    শেয়ার করুনঃ


    শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা প্রতিনিধি :


    নরসিংদীর রায়পুরায় কলাবাগান থেকে উদ্ধারকৃত  অজ্ঞাত মৃত ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় পরিচয় পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই দুই ব্যক্তির স্বজনরা থানায় এসে নিহতদের সনাক্ত করলে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়। এর আগে গত সোমবার রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শেরপুর এলাকার একটি কলাবাগান থেকে ওই দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এবং ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় সনাক্ত করে পিবিআই।


    নিহতরা হলেন উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাদ্দিনের ছেলে আলী হোসেন (৪৫) ও শিবপুর উপজেলার পাহাড় ফুলদী এলাকার আব্দুল মন্নাফের ছেলে দ্বীন ইসলাম (৩৫)। তারা দুজন পেশাদার জুয়াড়ি ছিলেন। জুয়া খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকা ঘটে থাকতে পারে বলে দাবি নিহত আলী হোসেনে স্ত্রীর শিখা বেগমের।


    শিখা বেগম বলেন, ‘পরনের কফি কালার শার্ট ও সাদা-কালো কালারের লুঙ্গি দেখে স্বামীর লাশ শনাক্ত করি।’ এর আগে রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৫ টায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাকে ফোনে ডেকে নেয়। তারপর রাত পেরিয়ে সকাল হলেও বাড়ি ফেরেননি আলী হোসেন। সোমবার শেরপুরের একটি কলাবাগানে থেকে তার স্বামীসহ আরো এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


    তিনি আরো বলেন, তার স্বামীর আরো এক স্ত্রী আছে। সতিন ও তিনি নরসিংদীর ঘোড়াশালে একটি কম্পানিতে চাকরি করেন। আলী হোসেনের জুয়া খেলার নেশা ছিল। এর আগে দুইবার জুয়া খেলার পাওনা টাকার জন্য তাকে আটক করেছিল লোকজন। জুয়া খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে আলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তার স্ত্রী শিখা বেগমের।


    নিহত দ্বীন ইসলামের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, স্বামী এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। আমার স্বামী কিছুই করতেন না, তবে নিয়মিত জুয়া খেলতেন। রোববার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাকে ফোনে ডেকে নেয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পরই তিনি ঘর বেরিয়ে যান। ওই রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। অনেকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাই। গতকাল সারাদিন তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। পরে কলাবাগান থেকে দুজনের লাশ পাওয়া গেছে শুনে আজ সকালে রায়পুরা থানায় যাই। সেখানে গিয়ে পরনের কাপড় ও ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করি। শাহিদা বলেন, জুয়া খেলার কথা বলে ডেকে নিয়ে সঙ্গের লোকজনই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’


    জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোবিন্দ সরকার। তিনি বলেন, লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।

    রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আজ দিনের মধ্যেই তাঁদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারা এই জোড়া হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2023 muktir71news.com All Right Reserved.