রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ ইং         ০৪:০৬ অপরাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    পর্যাপ্ত সিট থাকার পরও গণরুমে মানবেতর জীবনযাপন করছে শেকৃবির শতাধিক শিক্ষার্থী


    প্রকাশিতঃ 05 Dec 2022 ইং
    ভিউ- 56
    শেয়ার করুনঃ

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য নির্মিত শেখ লুৎফর রহমান হল এবং ছাত্রীদের জন্য নির্মিত শেখ সায়েরা খাতুন হলের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে বছর খানিক আগে, লক্ষ টাকার আসবাব ও কেনা হয়েছে।তবে কোন কোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ হল দুটোয় থাকবেন, কবে চালু হবে সেটিও এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি শেকৃবি কর্তৃপক্ষ। অথচ চরম আবাসিক সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছে  শিক্ষার্থীরা।


    ২০১৯ সালে শেকৃবির তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদের সময় শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২০ সালে হল দুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর পর করোনার কারণে দেরি হলেও ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছাত্রীদের এবং ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রদের জন্য নির্মিত হলের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এ বছরের মার্চ মাসে। যদিও মূল কাজ শেষ হয়ে যায় গত বছরের ডিসেম্বরেই। এরপর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হলগুলো চালু করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, জনবলের ঘাটতির কারণেই হলগুলোতে শিক্ষার্থী উঠানো যাচ্ছে না ।


    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জনবলের এতই ঘাটতি যে হলের সম্পূর্ণ কাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিনিময় কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নিজের অর্থ ব্যয়ে হল দেখভালের জন্য কিছু লোক রাখতে বাধ্য হয়েছে। যদিও সরেজমিন কয়েকবার লুৎফর রহমান হলে গিয়ে ভেতরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। লুৎফর রহমান হলে রুম রয়েছে রয়েছে ২৫০টি। রয়েছে রান্নাঘর, শৌচাগার, ক্যান্টিন ও ডাইনিং, টিভিকক্ষ, নামাজের স্থান। সায়েরা খাতুন হলে রুম সংখ্যা ২৩৮টি। দুই হলেই গণরুমসহ জায়গা হবে মোট দুই হাজার শিক্ষার্থীর।


    এদিকে হল চালুর নাম না থাকলেও ১৪ মাস আগে বিনা পারিশ্রমিকে হল প্রভোস্ট দিয়ে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. উদয় কুমার মহন্তকে শেখ লুৎফর রহমান হলে ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলামকে শেখ সাহেরা খাতুন হলের প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শেখ লুৎফর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. উদয় কুমার মহন্ত গত ৭ মাস ধরে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, তার কারণেই হল খুলতে দেরি হচ্ছে।



    হলের কাজ শেষ হওয়ার আগেই হল প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল মুক্তির ৭১ নিউজ ডট কম কে বলেন, হলের কাজগুলো বুঝে নেওয়ার জন্য এবং খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নামমাত্র প্রভোস্ট। তাদের প্রভোস্ট পদের বেতন দেওয়া হয় না।


    বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছেলেদের জন্য ৩টি এবং মেয়েদের জন্য ২টি হল চালু রয়েছে। তবে সিট ভাড়া, রুম ভাড়া, চারজনের রুমে একা থাকা, হলে নিয়মিত না থাকলেও ক্ষমতার জোরে সিট দখল করে রাখা এবং বাইরে থেকে পড়তে আসা মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জায়গা দেওয়ায় এখন সিট সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন সিট প্রত্যাশী ১ম ও ২য় বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। 


    বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, করোনাকাল বাদ দিলেও আমরা প্রায় ১ বছরের বেশি সময় গণরুমে ছিলাম, যেখানে ১০০ জনের মতো শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে থাকতে হতো। গণরুম থেকে আমাদের রুমে সিট দিলেও চারজনের রুমে থাকতে হচ্ছে ৮-১২ জন। আমাদের জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখনও গণরুমে, এরই মধ্যে নতুন আরেক ব্যাচের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন হলে সংযুক্তি না দেওয়ায় অন্য হলগুলোতে সিট সংকট তীব্রতর হচ্ছে। 


    বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, গণরুমগুলোর অবস্থা সবার জানা। ডেঙ্গু মৌসুমে ডেঙ্গু, ভাইরাল ফিভারের সময় গণহারে জ্বর, এমনকি বিভিন্ন সিজনাল রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম টার্গেট যেন গাদাগাদি করে থাকা এ গণরুমের শিক্ষার্থীরা। আমরা এখনও গণরুমে আছি। এমনিতেই সিট সংকট, আমরা ভেবে রেখেছিলাম নবীনদের নতুন হল সংযুক্তি দেওয়া হবে। এখন দেখছি আশায় গুড়ে বালি। 


    হল চালু না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুন আবাসিক হলের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় আমরা এ বছর শিক্ষার্থীদের হলে তুলতে পারিনি। লোকবলের নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা হলের কাজ শুরুর সময়ের অর্গানোগ্রামে ছিল না। আগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভুলের কারণে আমাদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে আমরা নতুন অর্গানোগ্রামে লোকবল নিয়োগের বিষয় সংযুক্ত করেছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব।



    একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন, হলগুলোর কাজ শুরুর সময় অর্গানোগ্রামে লোকবলের বিষয় উল্লেখ না থাকা এবং নিয়োগজনিত সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীদের তুলতে পারছি না। তবে আমরা বিকল্প পরিকল্পনা করছি। ডিসেম্বরে টিএসসিসহ আবাসিক হল ২টি উদ্বোধন করে যদি অন্য সেক্টর থেকে কিছু সংখ্যক লোক এনে চালু করা যায় আমরা তাই করব। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পরিকল্পনা করছি।

    মুক্তির ৭১/নিউজ / আশরাফুল 


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2023 muktir71news.com All Right Reserved.