মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২ ইং         ১১:০২ অপরাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    জামাত নেতা ভাড়া দিচ্ছেন যাত্রীছাউনী


    প্রকাশিতঃ 30 Dec 2021 ইং
    শেয়ার করুনঃ

    স্টাফ রিপোর্টার 

    ছাগলনাইয়ায় ফেনী জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো দিনে দিনে দখল হয়ে গেছে। কোনোটি জামায়াত নেতা ভাড়া দিয়েছেন, কোনোটিতে অটোরিকশার চালকরা আড্ডা দেন ও তাদের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন। কোনো যাত্রীছাউনি চা-রুটির দোকান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো যাত্রীদের কোনো কাজেই আসছে না।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পৌর শহরের সরকারি কলেজ রোডের যাত্রীছাউনিটি কলেজের সামনেই অবস্থিত। ২০১৯ সালে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা জানান, নির্মাণ করার সময় ঠিকাদার অনিয়ম করে যাত্রীছাউনির সঙ্গে একটির পরিবর্তে দুটি দোকান নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন দোকান দুটি তালাবদ্ধ থাকার পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতা তালা খুলে দোকান দুটি পাঁচ হাজার টাকা করে ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের অবস্থানের ছাউনিটাও একজন রুটির কারিগরের কাছে ১৫০০ টাকায় ভাড়া দেন।এ ব্যাপারে রুটির কারিগর মিস্টার (৫০) জানান, জামায়াত নেতা আবুল হাসানের কাছ থেকে তিনি ১৫০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় যাত্রীছাউনিটা ভাড়া নিয়েছেন।পাশের দুই দোকানদার ছেরাজ ও বেলাল জানান, হাসানের কাছ থেকে তারা এই দোকান দুটি মাসিক পাঁচ হাজার টাকা হারে কিছু অগ্রিম দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন।এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা আবুল হাসান জানান, তিনি ১৫০০ টাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ নেন। যাত্রীছাউনি ভাড়া দিতে পারেন কিনা এবং পাশের দোকান ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।ছাগলনাইয়া-ফেনী, মুহুরীগঞ্জ, শুভপুর, মনুরহাটগামী যাত্রী সাজ্জাত হোসেন, সরকারি কলেজ পড়ূয়া ছাত্র এমদাদুল হক, সাকিব শাহরিয়া, ফয়সাল, ইমাম হোসেনসহ আরও কয়েকজন জানান, ফেনী জেলা পরিষদ জনগণের করের টাকায় ছাগলনাইয়া উপজেলায় অর্ধশত দোকান কাম যাত্রীছাউনি নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেসব যাত্রীছাউনিতে রোদ, ঝড়, বৃষ্টিসহ নানা দুর্বিপাকে কোনো যাত্রী আশ্রয়, বিশ্রাম বা অপেক্ষা করতে পারে না। ওইসব ছাউনিতে বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান। এ ছাড়া ছাউনিগুলো হয়ে উঠেছে গাড়ির চালক ও তাদের সহযোগীদের আড্ডাখানা।উপজেলা পরিষদের সামনে, সুবেদারী রাস্তার মাথা, মির্জার বাজার, পাঠাননগর, কনট্রাক্টর মসজিদ বাজার, শান্তিরহাট বাজারসহ পুরো উপজেলার যাত্রীছাউনিগুলোতে একই চিত্র দেখা গেছে।এ ব্যাপারে ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার মজুমদার তপন জানান, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিষয়গুলো তাকে দেখানো ও জানানো হয়নি। তবে তিনি বিভিন্নভাবে জেনেছেন- জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো জামায়াত নেতার দখলসহ বিভিন্নভাবে বেদখল হয়ে আছে। তিনি শিগগিরই এগুলো উদ্ধারে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।

    মুক্তি / আকাশ 


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2022 muktir71news.com All Right Reserved.
    Developed By Skill Based IT